আপনার বিড়ালকে কি গোসল করাতে ভয় পান? আমাদের প্রিয় বিড়ালটিকে যখন পরিষ্কার করতে হয়, তখন তার চোখে যে ভয় আর অসহায়ত্ব দেখি, তা আমাদের মনকে ছুঁয়ে যায়। কিন্তু তাকে সুস্থ রাখতে কিছু ক্ষেত্রে তো গোসল করানো অপরিহার্য।
আসুন, তার এই ভয়কে ভালোবাসার স্পর্শে কীভাবে দূর করা যায়, তা জেনে নিই। সেই সাথে, Mew Mew Shop BD থেকে আপনার বিড়ালের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের কথাও জানাব।
গোসল করানোর আগে প্রস্তুতি
গোসল করানোর আগে কিছু প্রস্তুতি নিয়ে নিলে কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায় এবং বিড়ালও কম ভয় পায়।
১. উপকরণ সংগ্রহ: গোসলের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস আগে থেকেই হাতের কাছে রাখুন। যেমন:
-
বিড়ালের জন্য শ্যাম্পু (Cat Shampoo): মানুষের শ্যাম্পু বিড়ালের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর, কারণ মানুষের শ্যাম্পুতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ বিড়ালের সংবেদনশীল ত্বককে শুষ্ক করে দেয় এবং লোম পড়া বাড়িয়ে দেয়। তাই অবশ্যই বিড়ালের জন্য তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
-
তোয়ালে (Towel) : কমপক্ষে দুটি মোটা তোয়ালে নিন। একটি গোসলের পর মোছার জন্য এবং অন্যটি অতিরিক্ত পানি শুষে নেওয়ার জন্য। মোটা তোয়ালে ব্যবহার করলে বিড়াল তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।
-
ব্রাশ (Bath Brush): গোসলের আগে লোম আঁচড়ে দেওয়ার জন্য। এতে লোমের জট খুলে যাবে এবং গোসলের সময় লোম পড়া কমবে।
-
মগ বা ছোট বালতি: পানি ঢালার জন্য। স্প্রেয়ার ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এর শব্দে বিড়াল ভয় পেতে পারে।
-
কটন বল (Cotton Balls): কানের ভেতরে পানি ঢোকা আটকাতে। কানের ভেতর পানি গেলে সংক্রমণ হতে পারে।
-
একটি পাত্র: গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি নেওয়ার জন্য।
Mew Mew Shop BD-এর পরামর্শ: Mew Mew Shop BD-তে আপনি বিভিন্ন ধরনের ক্যাট শ্যাম্পু পাবেন, যেমন PROTEX-G Tick and Flea Soap for Cats & Dogs বা Flea Shampoo। এই শ্যাম্পুগুলো ফ্লি এবং টিক্স দূর করতেও সাহায্য করে।
২. লোম আঁচড়ে দিন: গোসল করানোর আগে আপনার বিড়ালের লোম ভালোভাবে আঁচড়ে নিন। এতে ঝরে যাওয়া লোমগুলো ব্রাশে আটকে যাবে এবং লোমের জট থাকলে তা খুলে যাবে।
গোসল করানোর সঠিক পদ্ধতি
ধাপে ধাপে এই কৌশলগুলো অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: বিড়ালকে শান্ত করুন গোসল করানোর আগে বিড়ালকে আদর করুন এবং তার সাথে খেলুন। যদি সে শান্ত থাকে, তাহলে গোসলের সময় কম ঝামেলা হবে। আপনি তাকে একটি শান্ত, উষ্ণ ঘরে নিয়ে যেতে পারেন।
ধাপ ২: পানি প্রস্তুত করুন একটি অগভীর পাত্র বা বালতিতে কুসুম গরম পানি নিন। পানি যেন খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা না হয়। পানি যেন বিড়ালের পেটের নিচ পর্যন্ত থাকে।
ধাপ ৩: গোসল করানো শুরু করুন বিড়ালকে সাবধানে পানির মধ্যে বসান। তার সাথে নরম গলায় কথা বলুন যাতে সে ভয় না পায়। একটি মগ ব্যবহার করে তার শরীরে ধীরে ধীরে পানি ঢালুন। খেয়াল রাখবেন, তার কান, চোখ এবং মুখে যেন পানি না যায়। আপনি কানের ভেতরে কটন বল দিয়ে রাখতে পারেন।
ধাপ ৪: শ্যাম্পু ব্যবহার এবার বিড়ালের শরীরের লোমে শ্যাম্পু লাগান। শ্যাম্পু লাগানোর সময় আলতো করে তার ত্বক মালিশ করে দিন। পেটের দিক, পা এবং লেজের নিচে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
ধাপ ৫: শ্যাম্পু ধুয়ে ফেলুন পরিষ্কার কুসুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু পুরোপুরি ধুয়ে ফেলুন। নিশ্চিত করুন যেন কোনো শ্যাম্পু তার লোমে লেগে না থাকে, কারণ পরে এটি তার ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
ধাপ ৬: তোয়ালে দিয়ে মুছুন গোসল শেষে বিড়ালকে দ্রুত তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছুন। প্রথম তোয়ালে দিয়ে অতিরিক্ত পানি শুষে নিন, তারপর আরেকটি শুকনো তোয়ালে দিয়ে তাকে মুড়িয়ে দিন। বিড়ালের লোম যত দ্রুত শুকাবে, সে তত কম অস্বস্তিতে থাকবে।
গোসলের পর আপনার বিড়ালকে যেভাবে যত্ন নেবেন
গোসল করানো যতটা কঠিন, গোসলের পর তার যত্ন নেওয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক যত্ন না নিলে বিড়ালের ঠান্ডা লাগতে পারে বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
১. তাড়াতাড়ি শুকিয়ে নিন: গোসল শেষে বিড়ালকে দ্রুত একটি শুকনো, নরম তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে দিন। আলতো করে লোমগুলো মুছুন। জোরে জোরে ঘষবেন না, এতে তার নরম লোম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিড়ালকে প্রথমে একটি তোয়ালে দিয়ে অতিরিক্ত পানি শুষে নিন, তারপর আরেকটি শুকনো তোয়ালে দিয়ে তাকে ভালো করে মুড়ে দিন।
২. উষ্ণ ও নিরাপদ স্থানে রাখুন: বিড়ালকে একটি উষ্ণ এবং আরামদায়ক স্থানে রাখুন। লোম পুরোপুরি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাকে ঘরের বাইরে বা ঠাণ্ডা কোনো স্থানে যেতে দেবেন না। প্রয়োজনে আপনি হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন, তবে খুব কম তাপমাত্রায় এবং দূর থেকে ব্যবহার করবেন। হেয়ার ড্রায়ারের শব্দে বিড়াল ভয় পেতে পারে, তাই এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।
৩. পুরস্কার দিন: গোসলের পর আপনার বিড়ালকে তার পছন্দের ট্রিটস বা খাবার দিয়ে উৎসাহিত করুন। এতে তার মনে গোসলের প্রতি একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। সে বুঝতে পারবে যে গোসলের পর ভালো কিছু হয়, যা পরের বার গোসল করানোর সময় আপনার কাজ সহজ করে দেবে।
Mew Mew Shop BD-এর পরামর্শ: Mew Mew Shop BD-তে বিভিন্ন ধরনের Wanpy Cat Treats বা Fancy Feast Royale Seafood Platter Topped With Chicken Strips পাওয়া যায় যা আপনি গোসলের পর খুশি হয়ে পুরস্কার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, যেন সে গোসলে আগ্রহী হয়।
৪. লোম আঁচড়ে দিন: যখন বিড়ালের লোম প্রায় শুকিয়ে যাবে, তখন একটি ব্রাশ ব্যবহার করে লোমগুলো ধীরে ধীরে আঁচড়ে দিন। এতে লোম আরও মসৃণ এবং জটমুক্ত হবে।
৫. কানের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন: যদি আপনি কানের ভেতরে কটন বল ব্যবহার না করেন, তাহলে একটি শুকনো কটন বল দিয়ে কানের বাইরের অংশ আলতো করে পরিষ্কার করে দিন। তবে কানের খুব গভীরে প্রবেশ করবেন না।
৬. নখ কেটে দিন: গোসল করার পর বিড়ালের নখ নরম হয়ে যায়। এই সময় নখ কাটা সহজ। যদি আপনার বিড়ালের নখ বড় থাকে, তাহলে গোসলের পর তার নখগুলো সাবধানে কেটে দিতে পারেন।
বিড়ালের গোসল করানো কঠিন মনে হলেও সঠিক প্রস্তুতি এবং কৌশল মেনে চললে এটি অনেক সহজ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, সব বিড়ালের গোসলের প্রয়োজন হয় না। যদি আপনার বিড়াল খুব বেশি নোংরা হয় বা ভেটেরিনারি ডাক্তার পরামর্শ দেন, তবেই তাকে গোসল করান। বেশিরভাগ সময় বিড়ালরা নিজেরাই নিজেদের পরিষ্কার রাখতে পারে।

Comments